রাজউকের মেম্বার অর্থ এডমিন মো. আলম মোস্তফার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর উত্তরা, গুলশান, বনানী ও পূর্বচলে প্লট ও ফ্ল্যাট লীজডিড কার্যক্রমে রয়েছে দুর্নীতি ও অনিয়ম। গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টার নাম ভাঙ্গিয়ে একের পর এক দুর্নীতি ও অনিয়ম করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
জানা গেছে, রাজউকের চেয়ারম্যানের নির্দেশ ছাড়া রাজউকের মেম্বার অর্থ এডমিন মো. আলম মোস্তফা তার নিজ ইচ্ছায় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টার নাম ভাঙ্গিয়ে একের পর এক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মো. আলম মোস্তফার দুর্নীতির কারণে ঢাকার উত্তরা, গুলশান, বনানী ও পূর্বচলে প্লট ও ফ্ল্যাট লীজডিড কার্যক্রম এক প্রকার বন্ধ হয়ে আছে। যার জন্য প্রতি মাসে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। তিনি একাধিকবার কানাডা, আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। শুনা যায় তার কানাডায় বাড়ি রয়েছে। রয়েছে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।
আরও জানা গেছে, রাজউকের প্রধান ভবনের পিছনের ভবনে বিভিন্ন ফ্লোর ফাঁকা রেখে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাজউকের ৪টি জোন অফিস করেছে। ওই ৪টি জোন অফিসের ভাড়া গুণতে হচ্ছে ৩/৪ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এই টাকা ব্যয় হচ্ছে। সেখান থেকে কমিশন আলম মোস্তফার পকেটে যায়। রাজউকের মেম্বার অর্থ এডমিন মো. আলম মোস্তফা হচ্ছেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি কিভাবে এতো টাকার মালিক হলেন। এইসব টাকার উৎস কি খোঁজখবর রাখছেন দুদকের অনুসন্ধান টিম।
অপর একটি সূত্র জানায়, একের পর এক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঘুষ, দুর্নীতি এবং অনিয়মের কারণে বার বার আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজউকের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে অনিয়ম-দুর্নীতি এখন গেড়ে বসেছে। সংস্থাটির সেবার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উভয় স্তরেই দুর্নীতি ও ভয়াবহ অনিয়ম রয়েছে। আর এসব দুর্নীতির ক্ষেত্রে রাজউক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আঁতাত স্পষ্ট। ফলে, রাজউক কর্তৃক সার্বিক জবাবদিহি কাঠামো কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন ব্যহত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মন্তব্য, নতুন করে দফতরটির বারোটা বাজানোর জন্য আগমন ঘটেছে সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার অন্যতম দোসর, বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপ-সচিব মো. আলম মোস্তফার। সূত্র জানায়, আলম মোস্তফা সাবেক সরকারের মন্ত্রী এমপিদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন যাবৎ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক হাতে নিয়ন্ত্রণ করে। যে কারণে তার বাহিরে টেন্ডার, কেনাকাটা, বদলি বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্যসহ সব কিছুই চলতো তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ।
তারই ধারাবাহিকতায় এবার আরও বেপরোয়া দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য খ্যাত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এ পদায়ন পেলেন তিনি। শোনা যায়, এখানকার সর্বনিম্ন কর্মচারী পিয়ন, ড্রাইভার, থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পদে আসীন চেয়ারম্যান পর্যন্ত সবাই কোটিপতি। মিডিয়ার বদৌলতে মাঝে মধ্যে অনেকের শাস্তির কথা শোনা গেলেও সেগুলো কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। যেন দেখার কেউ নেই। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। মো. আলম মোস্তফা রাজউকে তার পদবী-সদস্য, প্রশাসন ও অর্থ। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন, এতো বড় একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ অপরাধী কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দেয়ার আগে যাচাই বাছাই প্রয়োজন ছিলো।
ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগে উল্লেখ আছে মো. আলম মোস্তফা, সাবেক উপ-সচিব, বানিজ্য মন্ত্রণালয়, বর্তমান-সদস্য প্রশাসন ও অর্থ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রধান কার্যালয়, ঢাকা। সে গত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন যাবৎ বানিজ্য মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছে। সে সুবাদে সেখানে সরকার দলীয় ঠিকাদারদের সাথে আতাতের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্য করে স্ত্রী, সন্তান, শশুর শাশুড়ীসহ দেশে বিদেশে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন।
এছাড়াও অতি সম্প্রতি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে যোগদানের পর হতে ফাইল আটকিয়ে দরকষাকষির মাধ্যমে অর্থের নেশায় আরও বেপরোয়া আকার ধারণ করেছে তার দুর্নীতি। জাকারিয়া কাজল নামে জনৈক ব্যক্তি বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি দাখিল করেন। এসকল বিষয়ে হোয়াটস অ্যাপে কথা হলে তিনি জানান কেউ আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে আমার পেছনে লাগিয়েছে। বিষয়টি সম্পুর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন, তিনি আরো বলেন, ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে আমার কোনো সম্পত্তি নেই। তার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি একজন সাংবাদিককে ফোনটা ধরিয়ে দেন, ওই সাংবাদিক প্রতিবেদককে বলেন, তিনি অত্যান্ত ভালো লোক আমি তাকে অনেক দিন থেকে চিনি।
রাজউকের মেম্বার অর্থ এডমিন মো. আলম মোস্তফা জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

রাজউক
মেম্বার অর্থ এডমিন আলম মোস্তফার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
- আপলোড সময় : ০৪-১২-২০২৪ ০৭:১৪:৩৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৪-১২-২০২৪ ০৭:১৪:৩৪ অপরাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ